শৈলকুপায় সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লাল কার্ড, ডিলারশীপ বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
মো:মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারের ডিলারশীপ বাতিল এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা শহরের কবিরপুর তিন রাস্তা মোড়ে ‘শৈলকুপাবাসী’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে সার সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে প্রতীকীভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক কৃষক সংগঠক অ্যাডভোকেট লাবাবুল বাসার-এর সভাপতিত্বে সংহতি বক্তব্য রাখেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মিজানুর রহমান বাবলু, সেলিম রেজা ঠান্ডুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বক্তব্য দেন রাশেদ আহমেদ, কৃষক আব্দুর রহিম, বিশারত হোসেন, হাবিবুর রহমান, জহুরুল ইসলামসহ একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক।বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছর পেঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি ও খরিপ মৌসুম এলেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সার সংকট সৃষ্টি করে। পরে সেই সারই কয়েকগুণ বেশি দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। এতে প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকারি দামে সার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না।সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “সার সিন্ডিকেটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অথচ ফসলের ন্যায্য মূল্য কৃষক পাচ্ছে না। এতে কৃষক ক্রমেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।”বক্তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১) প্রকৃত কৃষকদের সঠিক ডেটাবেইজ তৈরি,২) সারের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করা,৩) সরকারি নির্ধারিত দামে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ,৪) কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং৫) প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা।সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।মানববন্ধন চলাকালে কবিরপুর তিন রাস্তা মোড়ে কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও কর্মসূচি শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply