গাজীপুর টঙ্গীতে বকেয়া বেতনের দাবি, দাবিরত আন্দোলনে হঠাৎ অসুস্থ ২০ জন পোশাক শ্রমিক।
মোঃ নজরুল ইসলাম – স্টাফ রিপোর্টার ,গাজীপুর
গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকায় এক্সপোর্ট ভিলেজ লিমিটেড পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আর্থিক দাবিতে আন্দোলন চলাকালে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ২০ জন পোশাকশ্রমিক। সমবার (গতকাল) সকাল থেকে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক শ্রমিক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রবিবার তারা সকাল আটটার সময় অফিসে এসে হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং একই জের ধরে সোমবার সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা বকেয়া দুই মাসের বেতন, ওভারটাইম ও হাজিরা বোনাস পরিশোধের দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা, তীব্র গরম ও মানসিক চাপের কারণে একে একে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অসুস্থতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০ জনে।আন্দোলনের একপর্যায়ে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ মাথা ঘোরা, কেউ শ্বাসকষ্ট ও বুক ধড়ফড়ের অভিযোগ করেন। সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাফিয়া শারমিন জানান, শ্রমিকেরা মূলত প্যানিক অ্যাটাকের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।অধিকাংশ শ্রমিক শারীরিক দুর্বলতা ও হিট এক্সহসশনের উপসর্গে ভুগছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে তিনি যানান।আন্দোলনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক শ্রমিকের ঘরভাড়া, বাজার খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন, বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে শ্রমিকদের অভিযোগ।খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন।এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেন, কারখানাটি সাময়িক আর্থিক সংকটে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধের জন্য মালিকপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি জানান।এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply