ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপি থেকে বহিষ্কার
মো:মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিএনপির দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।একইসঙ্গে তাকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের সকল পর্যায়ের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত এই নেতার সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী যেন কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখেন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি ঘোষিত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে। দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির দায়িত্বশীল মহল মনে করছে।এদিকে, সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বহিষ্কারের খবরে ঝিনাইদহের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের এ ধরনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করবে।উল্লেখ্য, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতি ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে তার রাজনৈতিক তৎপরতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসে, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply