শৈলকুপার সাধুখালি গ্রামে জমাজমি বিরোধে ভয়াবহ সংঘর্ষ, শিশুসহ আহত ২০
মো: মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সাধুখালি গ্রামে দীর্ঘদিনের জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে সাধুখালি গ্রামের দুই প্রতিবেশী পক্ষের মধ্যে জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর আগে বুধবার দিনভর ওই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো গ্রাম এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার নিজ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।আহতদের স্বজনরা জানান, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, “সংঘর্ষে আহত হয়ে অন্তত ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। অন্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”সংঘর্ষের খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।শৈলকুপা থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের মতে, প্রশাসনের মাধ্যমে আগেই সুষ্ঠু সমাধান হলে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো না।ঘটনার পর থেকে সাধুখালি গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply