ঝিনাইদহে রাতের আঁধারে রাস্তা নির্মাণ, সকালেই উঠে গেল পিচ হলিধানীতে ঠিকাদারি অনিয়মের প্রমাণ, জনমনে তীব্র ক্ষোভ—শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
মো:মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ইট ও খোয়া বের হয়ে আসায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সরেজমিনে দেখা যায়, হলিধানী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে রাতের বেলায় তড়িঘড়ি করে পিচ ঢালাই করা হয়। কিন্তু সকাল হতে না হতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে যায়, কোথাও আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার অবস্থা আরও করুণ হয়ে পড়ে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন,“দিনের আলোতে কাজ করলে অনিয়ম ধরা পড়বে—এই আশঙ্কায় রাতের আঁধারে কাজ করা হয়েছে। ঠিকভাবে রাস্তা পরিষ্কার না করে, প্রয়োজনীয় পিচ ও বিটুমিনের পরিমাণ না মেনেই নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে।”এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থ লোপাট করতেই ঠিকাদার এ ধরনের নিম্নমানের কাজ করেছেন। অথচ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য বহনকারী যান ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে। রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।একজন ভুক্তভোগী বলেন,“নতুন রাস্তা দেখে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যখন পিচ উঠে গেল, তখন বোঝা গেল—এটা শুধু নামেই উন্নয়ন, বাস্তবে লুটপাট।”স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, কাজ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তদারকি চোখে পড়েনি। ফলে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, দোষী ঠিকাদারের বিল বাতিল, কালো তালিকাভুক্তকরণ এবং মানসম্মতভাবে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকাবাসী।স্থানীয়দের মতে, উন্নয়নের নামে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে এবং জনগণের আস্থা হারাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। এখন দেখার বিষয়—এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply