শৈলকুপায় গভীর রাতে মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে উত্তেজনা স্থানীয়দের অবরোধ, পুলিশি হস্তক্ষেপে উদ্ধার
মো:মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় একটি মাদরাসায় রাতের আঁধারে নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাদরাসা সুপার, সভাপতি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া এক নারী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেয়।শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুটিমারি আউলিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। রাতের বেলায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাদরাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানান।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না রেখেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে গভীর রাতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে বাধা দেন এবং সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, নাইটগার্ড পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ১২ জন পরীক্ষার্থীর। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর রয়েছে মাত্র ১০ জনের এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন কেবল ৩ জন পরীক্ষার্থী। এতে করে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে করে ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া ওই নারী কর্মকর্তা মাদরাসায় আসেন। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য—মেয়ে, বোন ও নাতিকেও দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এবং রাতের বেলায় পরীক্ষা আয়োজনকে ঘিরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।মাদরাসা সুপার রুহুল আমিন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিয়ম মেনেই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। ডিজির প্রতিনিধি দেরিতে পৌঁছানোয় পরীক্ষাও দেরিতে শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খাতা ও কাগজপত্র প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ঠিক তখনই স্থানীয়রা এসে বাধা দেন।”অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শৈলকুপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় মাদরাসা সুপার এবং ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া নারী কর্মকর্তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।”ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের আঁধারে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পেছনে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কমিটি গঠনের ঘোষণা আসেনি। পুরো ঘটনার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply