ঝিনাইদহে অতিরিক্ত খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন
মোঃ:মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ পৌরসভার আওতাধীন হাটবাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে নতুন হাটখোলা বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।সংবাদ সম্মেলনে বাজারের মাছের আড়ৎদার বাদশা বুলবুল ও আব্দুল করিম মিয়া, কাঁচামালের আড়ৎদার হুমায়ন কবির কল্লোল এবং গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহাই দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশিমতো খাজনা আদায় করছেন। নির্ধারিত রশিদ ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাসিক চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ তোলেন তারা।বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী বলেন, আগে এক মন কাঁচামালে চার টাকা খাজনা ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে মনপ্রতি ১৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। চট খাজনা আগে ১৫ থেকে ২০ টাকা থাকলেও এখন দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এলে তার কাছ থেকেও ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।কুরবান আলী ও হাবিবুর রহমান জানান, একটি ছাগল বিক্রিতে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে, যা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই রশিদ না দিয়েই জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনার নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে হাটবাজার বন্ধ রেখে কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার আক্তার হোসেন বলেন, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ীই খাজনা আদায় করা হচ্ছে, নিয়মের বাইরে কিছু করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, জবাইকৃত গরুতে ৭০ টাকা ও ছাগলে ৪০ টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে। খাজনার তালিকা সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য ঝিনাইদহ পৌরসভা-কে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তা এখনো ঝোলানো হয়নি বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা-এর প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, দ্রুত খাজনার তালিকা সাইনবোর্ড আকারে টাঙিয়ে দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা তালিকা দেখে খাজনা পরিশোধ করতে পারেন। অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তসাপেক্ষে হাটের ইজারা বাতিলের বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply