ঝিনাইদহে শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, নিন্দা-সমালোচনায় নেটিজেনরা
মো:মিল্টন হোসেন জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে এক স্কুল শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে জেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাওয়া জান্নাত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি চিত্রকর্ম ও কবিতার মতো লেখা পোস্ট করলে তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।জানা গেছে, মাওয়া জান্নাত ঝিনাইদহের চারুগৃহ নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তিনি নিজেকে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত আবৃত্তিকার ও কবি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। শনিবার সকালে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি চিত্রকর্ম পোস্ট করা হয়, যার সঙ্গে রূপকধর্মী ভাষায় লেখা একটি কবিতাংশ সংযুক্ত ছিল।পোস্টে ব্যবহৃত ভাষা ও চিত্রকর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্যে লেখাটিকে “অশালীন”, “কুরুচিপূর্ণ” ও “শিক্ষকসুলভ আচরণের পরিপন্থী” বলে আখ্যা দেন।নাসিরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, তার কন্যা ওই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। একজন শিক্ষকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের পোস্ট অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষকদের আচরণে সংযম ও দায়িত্বশীলতা থাকা প্রয়োজন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাওয়া জান্নাত বলেন, তিনি যে চিত্রকর্মটি পোস্ট করেছেন তা একটি বিখ্যাত পেইন্টিং। এটি কোনোভাবেই অশালীন বা বিতর্কিত নয় বলে তার দাবি। তিনি আরও বলেন, শিল্প ও সাহিত্য প্রকাশের স্বাধীনতা তার সাংবিধানিক অধিকার। এর আগে এমন লেখা ও চিত্র তিনি পোস্ট করেছেন বলেও জানান।এ বিষয়ে চারুগৃহ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আরেফিন অনু বলেন, “তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তবে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে কী পোস্ট করবেন, তা তার ব্যক্তিগত বিষয়।”ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে শিল্প-সাহিত্যের স্বাধীন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একজন শিক্ষকের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলছেন।এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: starwebhostit.com
Leave a Reply