ঘোড়াঘাটে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক
মোফাজ্জল হোসেনঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদক ব্যবসা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম, হাট-বাজার এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও প্রকাশ্যে চলছে মাদক বিক্রির রমরমা বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা কম থাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোড়াঘাট, পালশা, বুলাকীপুর ও সিংড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বিশেষ করে ১নং বুলাকীপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ী, কানাগাড়ী, বলগাড়ী, গোপালপুর, শ্রীচন্দ্রপুর মাঝিপাড়া ও কুলানন্দপুর এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া ২নং পালশা ইউনিয়নের চৌধুরী গোপালপুর এলাকাতেও মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একইভাবে ৩নং সিংড়া ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ সাউথগাড়ী, কশিগাড়ী, নুরপুর, আদিবাসীপাড়া এবং রানীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাতেও নিয়মিত মাদক লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামতেই উপজেলার পালশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রূপ নেয় এক ‘মাদক হাব’-এ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দ্রের আশপাশে চলে মাদকসেবীদের আসর। কেউ খোলা জায়গায় বসে সেবন করছে, কেউ কেন্দ্রের রুমের ভিতরে বা আশেপাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে সেবন করে।স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলেও কিছুদিন পর তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আবার আগের মতো মাদক ব্যবসা শুরু করে। ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানযোগে এসব মাদক আশপাশের গ্রাম ও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সহজলভ্যতার কারণে এলাকার কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয়ও বাড়ছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অনেক সময় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বললে উল্টো হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অনেক সময় মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘোড়াঘাট উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। কোথাও মাদক কেনাবেচা বা সেবনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণকেও পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।”স্থানীয়দের প্রত্যাশা—অচিরেই কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঘোড়াঘাটকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পুলিশ-প্রশাসন দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply