কালীগঞ্জে বিএনপির জনসভা ঘিরে রণক্ষেত্র, ১ পুলিশসহ আহত ১০
মো: মিল্টন হোসেনজেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জনসভা ঘিরে দলীয় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চালায় বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরে কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ খান-এর উপস্থিতিতে আয়োজিত জনসভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভা শুরুর আগে থেকেই স্থানীয় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বক্তব্য চলাকালে সামনের সারিতে বসা কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।সংঘর্ষ দ্রুত সভামঞ্চ থেকে আশপাশের সড়ক ও বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কয়েকটি স্থানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষ ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে এক বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থেই ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।কালীগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”এদিকে দলের একটি অংশের অভিযোগ, স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। অপরপক্ষের দাবি, জনসভা বানচালের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।ঘটনার পর কালীগঞ্জ শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
প্রযুক্তি সহায়তায়: starwebhostit.com
Leave a Reply